ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। হত্যার সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে পুলিশের তদন্তে নাম উঠে এসেছে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর।
ডিবি প্রধান জানান, হাদিকে টার্গেট করার মূল কারণ ছিল তার আওয়ামী লীগ বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অবস্থান। হত্যার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৫ জন পলাতক। তদন্তে প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। ডিবি প্রধান আরও জানান, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ভিডিওবার্তা দিতে পারে, কিন্তু তার জড়িত থাকার প্রমাণও নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে।