Image description
 

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে জমা দেওয়া ৩৮ প্রার্থীর ১৯ জনেরই (অর্ধেক) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ জনের প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছে।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন— রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক (বিএনপির বিদ্রোহী), রাজশাহী-২ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা শাহাবুদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহনপুর উপজেলা কৃষকলীগের নেত্রী হাবিবা বেগম, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লন্ডন প্রবাসী জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম, এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী রায়হান কাওসার, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জুলফার নাঈম মোস্তফা।

 

এদের বেশিরভাগই সমর্থক হিসেবে নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে দিতে পারেননি। এ ছাড়া কেউ ঋণখেলাপি আবার কেউ যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।

 

দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মীর মো. শাহাজান, রাজশাহী-২ আসনের এলডিপির প্রার্থী মো. ওয়াহেদুজ্জামান, রাজশাহী-৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান, আমজনতার দলের সাঈদ পারভেজ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান, রাজশাহী-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যে ১৯ জনের প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছে তারা হলেন— রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও এবি পার্টির আব্দুর রহমান; রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল হক ও নাগরিক ঐক্যের সামছুল আলম; রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির শফিকুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন; রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী; রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের মনজুর রহমান এবং রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ, জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস সালাম সুরুজ।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ‘একজন প্রার্থীর ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জটিলতার কারণে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ কিংবা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। স্মারকলিপি আকারে সেদিন তাদের ৭ সেট নথি জমা দিতে হবে।’