Image description
 

মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না।” সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তার মূলে রয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তিনি বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি এই অবস্থানে অনড় যে, মুক্তিযুদ্ধই আমাদের প্রধান ভিত্তি এবং একে ধারণ করেই সামনের দিকে এগোতে হবে।

সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে যে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে।

 

বৈঠক শেষে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজসহ অন্যান্য নেতারা জানান, তারেক রহমান দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

 

সাক্ষাৎকালে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁরা দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক হিসেবে দেখছেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সব পক্ষকে একসঙ্গে চলার কথা বলা হয়েছে।