ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ‘খুনি ও সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রতিমন্ত্রী। এসময় শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং চীনের সঙ্গে করিডরে যুক্ত হওয়া নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনার পাসপোর্ট ফেরত চাওয়ার বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দেন হুমায়ুন কবির। দেশে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘শেখ হাসিনার পাসপোর্ট ফেরত চাওয়ার দাবি হাস্যকর। হাজার হাজার মানুষ হত্যার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।
বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় একজন খুনি ও সন্ত্রাসী হিসেবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। ’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবাতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে বিচারের মুখোমুখী করতে ফেরত চাইছে বাংলাদেশ। যা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রায়ই কথা বলতে শোনা যায়।
কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডর নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছে না সরকার, এমনটাই জানালেন প্রতিমন্ত্রী। বললেন, ‘এই উদ্যোগের সঙ্গে কোনো ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি দেখছে না সরকার। বরং করিডরটি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। ’
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব দিক পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের প্রতিনিধি লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন লিউ হাইশিং। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
শীর্ষনিউজ