Image description

পশ্চিমবঙ্গের গাইঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে, রাজ্যটির ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্র্যাটিক রাইটস- এপিডিআর’ বা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ওই ক্রসফায়ারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলছে, “এনকাউন্টারে প্রহ্লাদ দাস নামের এক তরুণের মৃত্যুর খবরে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। রাত বারোটার সময় বন্দিকে নিয়ে ঘটনার পুন:র্নিমানে যাওয়া গভীর সন্দেহজনক। তাও বন্দির হাত খোলা রেখে! দিনের আলোতেই পুলিশ বেআইনিভাবে বন্দিদের কোমরে দড়ি বা হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। কাজেই রাতে হাত খোলা রেখে নিয়ে যাওয়া গভীর সন্দেহজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

 

এনকাউন্টারের গল্প সাজানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে এপিডিআর বলছে, “এজন্যই কি রাত বারোটায় হাত খোলা রেখে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে তার পায়ে বা কোমরের নীচে গুলি করার কথা তাহলে হত্যা করার জন্য গুলি কেন করা হলো? পুলিশের রিভলবার কি ভাবে ছিনতাই হলো? এত সোজা? পুলিশ কি রিভলবার কোমরে এসওপি মেনে রাখেনি? নিজের রিভলবার রক্ষা করতে পারে না এ কেমন পুলিশ?”

 

এপিডিআর এর সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “পুরো পরিস্থিতির প্রাথমিক পর্যালোচনায় আমরা মনে করি, পুলিশ এনকাউন্টারের গল্প সাজিয়েছে। আসলে এনকাউন্টারের নামে ভূয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে - ঠিক যেভাবে বারুইপুরে করা হয়েছিল। আমরা পুলিশের কথা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছি না।”

 

সাম্প্রতিককালে পশ্চিমবাংলায় পুলিশ হেফাজতে লাগাতর বন্দি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে উল্লেখ করে গাইঘাটায় আসামিকে ক্রসফায়ারের ঘটনায় অবিলম্বে হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বারুইপুরের পরে কান্দি, হালিশহর বীজপুর, ক্যানিং, দুবরাজপুরে পুলিশ হেফাজতে বন্দিমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কোন ক্ষেত্রেই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। বিচারবিভাগের ভূমিকাও হতাশাজনক।”

 

নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় বিজেপি সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।