Image description

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টু অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসাবশেষের একটি কার্নিশের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় নিখোঁজ থাকা সর্বশেষ ব্যক্তির সন্ধান মিলল।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান ও ইউএনও পান্না আক্তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন তিনতলা কাঠের রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুক্তা। শুরুতে ১১ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে একে একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মুক্তার নমুনার মিল না পাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

মঙ্গলবার সকালে মুক্তার সন্ধানে রিসোর্ট এলাকায় নতুন করে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশির পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে তিনি ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তার দুই বান্ধবী রিসোর্ট থেকে বের হতে পারলেও মুক্তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে তার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।

এদিকে সোমবার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ছিলেন ঢাকার শ্যামলী এলাকার একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন- মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্য ছয়জন হলেন- মৌলিতা মেহজাবিন আলভী (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামী (২৪)। তাদের বাড়ি ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এবং বরগুনার আমতলী এলাকায় বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়া ও অপর মালিক নেওয়াজ মোর্শেদ পলাতক রয়েছেন। রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।