নাগরিক ভোগান্তি কথা উল্লেখ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ঢাকা-১১ আসনে বসবাসরত এক ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে। সেই স্ট্যাটাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা-বনশ্রী, খিলগাও-মুগদা নিয়ে ঢাকা-১১ আসন। সেখানে বসবাসরত রিদুয়ান মহসিন নামে এক ব্যক্তি গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, এসব এলাকার মানুষের কাছে যানজট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। কিন্তু যানজটের ভোগান্তি কেবল সড়কে গাড়ির চাপের কারণে নয়; অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ, বিকল্প সড়কের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির ঘাটতিও মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও লেখেন, পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ কার্যত অনেক সময় অচল হয়ে পড়ে। ব্যস্ত সড়কের বড় অংশজুড়ে নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে রাতেও যানবাহন দীর্ঘ সময় একই জায়গায় আটকে থাকে। কর্মঘণ্টা, ব্যক্তিগত সময় এবং মানসিক স্বস্তি—সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
‘‘এর মধ্যে মেরুল বাড্ডা ও হাতিরঝিল সংলগ্ন ইউলুপ ব্যবহার করেও অনেক সময় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না। রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। যে অবকাঠামো মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা, সেটিই যদি নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়, তাহলে সেই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’’
রিদুয়ান মহসিন আরও লেখেন, মধুবাগ এলাকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের একাধিক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে টিনের বেড়া দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলে প্রশ্ন ওঠে—কাজের অগ্রগতি কোথায়, সড়কটি কবে খুলবে এবং এর বিকল্প ব্যবস্থা কী? নির্মাণকাজের প্রয়োজনে সড়ক বন্ধ রাখা লাগতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা, দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং কার্যকর বিকল্প পথ নিশ্চিত করা জরুরি।
‘‘সমস্যা হলো, মধুবাগসহ আশপাশের এলাকায় বিকল্প সড়কগুলোও বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হলে মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। একদিকে মেরুল বাড্ডার যানজট এড়িয়ে চলার চেষ্টা, অন্যদিকে বিকল্প পথেও একই পরিস্থিতি—এ যেন এক ভোগান্তি থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেক ভোগান্তিতে পড়া।’’
তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভূমিকা তুলে আরও লেখেন, নাগরিকদের এসব সমস্যার সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রতি অনেকের রাজনৈতিক শ্রদ্ধা থাকলেও এলাকার দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তাঁর দৃশ্যমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।
‘‘নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এলাকার মানুষের যোগাযোগ কতটা রয়েছে, নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কতটা সমন্বয় করছেন—এসব বিষয় জন-আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকলে কিংবা তাঁদের দুর্ভোগের বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’’
পরে রিদুয়ান মহসিনের দীর্ঘ এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হলে সেখানে মন্তব্য করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি অনেক দুঃখিত। আমার আসনের ভোটার হিসেবে আপনার সমস্যা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব।
‘‘ঢাকা-১১ এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মেট্রোরেল এর কাজ শুরু হওয়াতে এই ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনের জন্য আমরা সিটি করপোরেশন, ডিএমপিকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি। কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালিত হয়েছে।’’
তিনি আরও লেখেন, যেহেতু গ্যাস সিলিন্ডার সিন্ডিকেট, অপরিকল্পিত রাস্তা কাটা কিংবা যানজটের মতো বিষয়গুলো সরাসরি সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারভুক্ত, তাই একজন প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়গুলোতে সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আমার না থাকলেও আপনার হয়ে আওয়াজ তোলার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি।
‘‘গ্যাস সিলিন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়ে আমি আসন্ন সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করবো। এছাড়া, এনসিপি থেকে আমরা নিয়মিত জ্বালানি ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করছি এবং বিকল্প সমাধানের প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছি।’’
এই স্ট্যাটাসটি গঠনমূলক সমালোচনা উল্লেখ করে নাহিদ লেখেন, আপনাদের এই ধরনের গঠনমূলক সমালোচনাই আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে। আমি নিয়মিত এলাকা পরিদর্শনে আসি এবং মানুষের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি। এছাড়া, এলাকার যেকোনো সমস্যা বা পরামর্শ নিয়ে কথা বলতে আপনি চাইলে আমার অফিসে এসে সরাসরি দেখা করতে পারেন। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমাদের সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে। ভালো থাকবেন।