একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি জনগণকে শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, পরাজিত শক্তির মেলবন্ধনে কেউ যাতে সমাজকে নতুন করে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তর এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি চায় না সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকুক, চায় না আপনি-আমি ভালো থাকি। তাই পরাজিত শক্তির মেলবন্ধনের মাধ্যমে তারা যাতে সমাজকে নতুন করে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ-মন্দির সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে দুর্বল বা সবল ভাবার সুযোগ নেই। যশোরের মাটিতে তার সন্তানের যতটুকু অধিকার রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তানদেরও সমান অধিকার রয়েছে। কে হিন্দু, কে মুসলিম কিংবা কে সমতলে বা পাহাড়ে বসবাস করেন, তা বিবেচ্য নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি কখনো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভক্তিতে বিশ্বাস করে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের সেই শিক্ষা দিয়েছেন। সেই শিক্ষা অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈষম্যহীনভাবে মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করছেন। এ দেশে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা হবে না। তাদের রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় বিবেচনা না করে নির্মূল করাই সরকারের লক্ষ্য।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি করোনারি কেয়ার ইউনিটের উন্নয়নকাজ শিগগিরই শেষ হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ এলাকাতেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এছাড়া স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত সুইমিং পুল সংস্কার করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে যশোর সদর আসনের অন্তত ২০টি গ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আজম ও সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আনজুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার সদস্যসচিব নির্মল কুমার বিট এবং আদিবাসী মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক বরুণ কর্মকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।