ইলেকট্রিক মোটর, কপিকল ও প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার ব্যবহার করে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা বিশেষ ধরনের কাঠের ক্যারিয়ারের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাফ নদী পেরিয়ে উখিয়ার ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ক্যারিয়ার টেনে আনার এ কৌশল শনাক্ত করেছে বাহিনীটি। বিজিবির ধারণা, এ ধরনের একটি ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব।
এ ঘটনায় উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
বিজিবি জানায়, ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘেরে একটি মাচাংঘরের পাশে চার থেকে পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামের দুজনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি উখিয়া উপজেলার নলবনিয়া ও মধ্যমফারির বিল এলাকায়।
পরে ঘটনাস্থল ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মুঠোফোন, ৯টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, সেটি টানার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি ও একটি ইলেকট্রিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে চলত পাচার
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ারটি ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে টেনে আনা হতো। মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে উখিয়ার পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ক্যারিয়ারটি নেওয়া সম্ভব হতো। এভাবে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা আনা সম্ভব বলে ধারণা করছে বিজিবি।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খালটি আঁকাবাঁকা হওয়ায় বিভিন্ন বাঁকে কপিকল ও তার ব্যবহার করা হতো। ক্যারিয়ার টেনে নেওয়ার সময় চোরাকারবারিদের একজন পানিতে মাছ ধরার ভান করে সেটির সঙ্গে এগোতেন। খালের বাঁক অতিক্রম করার সময় ছোট কপিকলগুলো বড় স্থায়ী কপিকল থেকে খুলে নেওয়া হতো। এভাবে ক্যারিয়ারটি বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসা হতো বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এক দিনে উদ্ধার ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা
বিজিবি আরও জানায়, ১৩ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসপি পোস্টসংলগ্ন সোহেলের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টাকালে রকি আহমেদ (২৬) নামের একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় নৌকার মাধ্যমে পানিতে ডুবিয়ে রশি দিয়ে টেনে আনার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতা বাড়ায় পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।