Image description

দেশের সরকারি-বেসরকারি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ হলেও বছরের পর বছর ধরে হচ্ছে না কোনো সমাবর্তন। এতে মূল সনদ না পেয়ে কর্মজীবন ও বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে কেউ কেউ এক থেকে দুই দশক পার করলেও এখনো পাননি কাঙ্ক্ষিত এই স্বীকৃতি। নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ায় একদিকে যেমন গ্র্যাজুয়েটদের গাউন-টুপি পরে সনদ নেওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মূল সনদের অভাবে শিক্ষার্থীরা নানামুখী প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতেও নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনে বাধ্য করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউসিজি) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের পাস করিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে তাদের দায়িত্ব শেষ। নিয়মিত সমাবর্তন করে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়ায় আগ্রহ কারও নেই। সমাবর্তন নিয়ে সরকারের একটি নির্দেশনা থাকা উচিত।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পার হলেও আজও হয়নি কোনো সমাবর্তন। এতে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট ফারহানা জামান বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করেছি ৯ বছর আগে, অথচ এখনো মূল সনদ পাইনি। সাময়িক সনদ পেয়েছি, যার মান ফটোকপির মতো। এই সনদ দিয়ে নানা জায়গায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সমাবর্তন না হওয়ায় ডিগ্রি অর্জনের মূল সনদ, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সেই আবেগময় মুহূর্ত থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি।’ কবে সমাবর্তন হবে—সেই তথ্য দিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ড. ফেরদৌস রহমানও। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘সমাবর্তনের কোনো আপডেট আমার কাছে নেই। এটা নিয়ে আলাদা কমিটি আছে, তাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।’

একই অবস্থা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আরও ১৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনোটি এক দশকের বেশি, কোনোটি কাছাকাছি সময় পার করলেও এখনো সমাবর্তন আয়োজন করেনি।

পাবলিকের থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা আরও করুণ। যেমন ২০০২ সালে অনুমোদন পাওয়ায় বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ২৪ বছর করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন আয়োজন করেনি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্টার গৌতম কুমার কালবেলাকে বলেন, ‘সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে গত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সময়-সুযোগ বুঝে আমরা তা করব। সমাবর্তন করলেও সনদ নিয়ে জটিলতা কেটে যাবে।’

ইউজিসি, বিভিন্ন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাবর্তন না করলে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সমাবর্তন ছাড়া মূল সার্টিফিকেট দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে সমাবর্তনের আগে ‘প্রবেশনারি’ বা সাময়িক সনদ দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেখানে ভিসির সই থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও রেজিস্ট্রারের সই দিয়ে এই সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। কিন্তু মূল সার্টিফিকেট ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিদেশে ভালো প্রতিষ্ঠানে আরও উচ্চশিক্ষা নিতে পারে না। এ ছাড়াও দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই সাময়িক সনদকে গুরুত্ব দেয় না। এতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সমাবর্তন না হওয়ায় আমরা মূল সনদ পাচ্ছি না। এতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক সনদপত্র আমাদের দেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য এই সনদ দিয়ে আবেদন করেছিলাম; কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল হক বলেন, আচার্যের হাতে মূল সনদ নিয়ে বের হওয়া একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে। কিন্তু আজও সমাবর্তন না হওয়ায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা, উদাসীনতা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাবে সমাবর্তন হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য যেমন কষ্টের, তেমনি লজ্জার।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমাবর্তন করতে গেলে রাষ্ট্রপতি বা আচার্য কর্তৃক নিয়োগ করা নিয়মিত উপাচার্য, আইন অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট গঠন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল সিন্ডিকেট অনুমোদনসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত পূরণ করে সমাবর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের কাছে আবেদন করলে তিনি সমাবর্তনের অনুমতি দেন।

তথ্যমতে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬টি চলছে পূর্ণকালীন ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার ছাড়াই। ৩১টিতে নেই ভিসি, ৮৬টিতে নেই প্রোভিসি এবং ৪০টিতে নেই ট্রেজারার। ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ভিসি ও প্রোভিসি নেই।

ইউসিজি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে অনুমোদনপ্রাপ্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার। আর অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭টি। এর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৭টি। বাকিগুলোর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি ৬টির, আর নানা কারণে বন্ধ রয়েছে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জন।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও সমাবর্তন হয়নি: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্র জানায়, সমাবর্তন আয়োজন করার যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত সমাবর্তন হয়নি। এর মধ্যে পাবনাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে এখন পর্যন্ত ২৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সমাবর্তন করেনি। এর মধ্যে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগের বেশি সময় পার করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকার ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, সিলেটের নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জের ঈশাখাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লার ব্রিটেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ফরিদপুরের টাইমস্ ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, নাটোরের রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, জামালপুরের ব্রক্ষপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বরিশালের গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, কাদিরাবাদের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কুমিল্লার বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, রাজধানীর উত্তরার রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় ও আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি, রাজধানীর জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, বরিশালের ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটের আরটিএম আল কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত, কোনোটিতে দু-তিন বার সমাবর্তন: ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত নর্থ সাউথ ও ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে এখন পর্যন্ত ২৬টি করে সমাবর্তন হয়েছে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এর কাছাকাছি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও সমাবর্তন করেছে মাত্র দু-তিনটি। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি ৩টি, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি দুটি, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মানারাত ইউনিভার্সিটি ২টি, একই সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১টি, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়াম ইউনিভার্সিটি ৩টি, একই সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাইম ইউনিভার্সিটি ৩টি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি ২টি, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শান্তা-মরিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ৩টি, একই সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি ১টি, সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ৩টি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া ২টি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ১টি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স ৩টি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি ৩টি, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি ১টি, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আশা ইউনিভার্সিটি ২টি এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি মাত্র ১টি সমাবর্তন আয়োজন করেছে।

অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করা হয়। আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষকদের অপেক্ষা যেন শেষ হয় না। তথ্য বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয় তিনটির বেশি সমাবর্তন করেছে।

ইউজিসির সূত্র জানায়, বর্তমানে আনছানউল্লা ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, জেডএইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আরপি সাহা ইউনিভার্সিটি, বরীন্দ্র মৈত্রী ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বান্দরবান ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই সমাবর্তন আয়োজন না করার কোনো কারণ নেই। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় সমাবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে একটা উৎসব করে সমাপ্তিটা উদযাপন করা উচিত। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এটা নিয়ে হেলাখেলা করে। আবার অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে পড়াশোনা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে দেন। আবার গতানুগতির রুটিনে পড়িয়ে একটা সনদ ধরিয়ে দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, পরিবেশ, মর্যাদা তারা উদাসীন। এটা হওয়া উচিত নয়।’

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘সমাবর্তন আয়োজন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। নিয়মিত সমাবর্তন করবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা। সময়-সুযোগমতো সমাবর্তন করার জন্য আমরা তাদের নানাভাবে উৎসাহিত করি। তবে সমাবর্তন না করলে ইউজিসির কিছু করার থাকে না।’