Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠন ঢাকার কোথাও মিছিল-সভা করলে মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে দায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

ডিএমপি সদরদপ্তরে টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এমনটি হলে সেই জোনের ডিসি ও থানার ওসিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে নেওয়া হবে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।’

উগ্রবাদী সংগঠনের পুনরুত্থান ও তৎপরতার ঠেকাতে জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা সিটিটিসি কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সফল হবে না।’

অবৈধভাবে অবস্থান করে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গোয়েন্দা পুলিশ খোঁজ রাখছে বলেও জানান তিনি।

কিশোর গ্যাং সদস্যরা কোথাও অস্ত্রের ব্যবহার করলে পুলিশও পাল্টা অস্ত্র ব্যবহার করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার। বলেছেন, আইন ও বিধির মধ্যে থেকে বল প্রয়োগ করবে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘ঘনবসতির এই শহরে কিশোর গ্যাং সমাজ ও আইনশৃঙ্খলার জন্য অনেক সমস্যার মধ্যে একটি।’

 

ঢাকায় প্রতিদিন পুলিশের অভিযানে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য আটক হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বলেন, মোহাম্মদপুরে সংখ্যা যেমন বেশি তেমনি সেখানে ধরাও পড়ছে অধিক। এর মধ্যে অনেক গ্যাং প্রধান আটক হয়েছে।

তবে আটকের পর অনেকে আদালতের মাধ্যমে জামিনে ছাড়া পাচ্ছে, যাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি বাধা হিসেবে দেখছেন ডিএমপি প্রধান। জামিনে ছাপা পেয়ে তাদের অনেকে নতুন করে অপরাধে যুক্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে জনগণের সক্রিয় সমর্থনও চান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। এজন্য কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।’

এই কার্যক্রম সম্পৃক্ত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন মোসলেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখানকার সমস্যা ও সংকট নানাবিধ। নিয়মিত বাসিন্দাদের কথা শুনে প্রতিটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল নিচ্ছে পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘থানা পুলিশ প্রতিটি এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সন্তানদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক করছে। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

হাউজিং কমিটি, সোসাইটি, সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের সঙ্গেও বসছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

মাদক এবং অপরাধ দমনে তল্লাশি চৌদি আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবেশ পথে যদি চালান ও সংশ্লিষ্টদের আটকে দেয়া যায় তবে ঢাকার মাদকের ভয়াবহতা হ্রাস পাবে।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ অনেক অপরাধীর আড্ডাস্থল হওয়ায় সেখানেও অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি প্রধান।

ঢাকার যানবাহন পরিচালনায় ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফেরার কথাও জানান মোসলেহ উদ্দিন। জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের কারণে ঢাকার রাস্তায় অনেক স্থানে যানজট কমেছে। মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতাও বাড়ছে।

বর্তমানে ঢাকায় ৩০টি সিগন্যানে এআই ক্যামেরা রয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশন আরও ৫০টি সিগন্যাল পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ২৮টি ও দক্ষিণে ২২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।