উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে এবার ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত পদ্ধতি। নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে উন্নয়ন প্রকল্প। অর্থাৎ বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোনো প্রকল্প যদি ৭৫-১০০ নম্বর পায়, তাহলে সেটির অবস্থান হবে রেড বা লাল জোনে। এর মানে হলো, খুব খারাপ অবস্থা। এ ছাড়া ৫০-৭৪ নম্বর পেলে সেটি যাবে ইয়েলো বা হলুদ জোনে। এর অর্থ মধ্যবর্তী অবস্থায় আছে। ৫০ নম্বরের নিচে থাকলে সেসব প্রকল্পের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। এর মানে হলো, বাস্তবায়ন সঠিক পথেই রয়েছে। নম্বর দেওয়ার প্রধান ভিত্তিগুলো হবে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হয়েছে কি না। ব্যয় বেড়েছে কি না। বার্ষিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি, ক্রমপুঞ্জিত খরচ, দরপত্র প্যাকেজের অবস্থা, ভূমি অধিগ্রহণ, পিএসসি ও পিআইসি সভা হয় কি না এবং গভর্ন্যান্স। এগুলোর আবার উপখাতভিত্তিক মার্কিং করা থাকবে।
এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে একটি নীতিমালা তৈরি করেেছ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এরই মধ্যে এটির প্রাথমিক খসড়া তৈরি শেষ হয়েছে। এখন চলছে ঘষামাজা। এরপরই সেটি মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের জন্য পাঠানো হবে। সেটি পেলে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে মতবিনিময় করা হবে। এর মধ্য দিয়ে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে যাবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এসব রঙ দিয়ে অবস্থা চিহ্নিত করার পর সেটি থাকবে ড্যাশবোর্ডে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা এবং আইএমইডি চাইলে যেকোনো সময় মোবাইল ফোনেই আপডেট দেখতে পারবেন। পাশাপাশি অবস্থার উন্নতি ঘটলে সে প্রকল্পের ধাপ পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা রঙ দিয়ে এই গ্রেডিং পদ্ধতিতে তাদের আপত্তি থাকতে পারে। যদিও এটি প্রকল্প পরিচালকদেরও ছোট করার জন্য নয়; বরং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো।
আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ আগামীর সময়কে বলেছেন, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নম্বর দেওয়ার যে ক্রাইটেরিয়া, সেগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। এ ছাড়া আইএমইডিকে শক্তিশালী করা জরুরি। কেননা এভাবে মূল্যায়ন করার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটি যেন অবশ্যই আইএমইডিকে জানায়। এজন্য প্রয়োজনে আইএএমইডির সক্ষমতা বাড়াতে আইনগত ভিত্তি সৃষ্টি করতে হবে। না হলে যাই করুন না কেন, ফলাফল ভালো হবে না। তিনি আরও বললেন, বিভাগীয় পর্যায়ে আইএমইডির আঞ্চলিক কার্যালয় করা দরকার। কেননা প্রায় ১৬০০-১৭০০ প্রকল্প ঢাকায় বসে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
আইএমইডি সূত্র জানায়, মূল্যায়নের মানদণ্ডগুলোকে যেভাবে ভাগ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নম্বর হচ্ছে ২০। এক্ষেত্রে একবার বাড়লে ৫, দ্বিতীয়বার ১০ এবং তৃতীয় থেকে বেশিবার হলে তখন ২০ মার্ক পাবে সেই প্রকল্প। এ ছাড়া ব্যয় বৃদ্ধির মোট নম্বর হলো ২০। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় থেকে ১০ শতাংশ বাড়লে সেক্ষেত্রে পাবে ৫ নম্বর। এ ছাড়া ১১-২০ শতাংশ বাড়লে ১৫ নম্বর এবং ২০-৫০ শতাংশ ব্যয় বাড়লে পাবে ২০ নম্বর। এভাবে ভাগ করে নম্বর দেওয়া হবে। একইভাবে বার্ষিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির ক্ষেত্রে আছে পাঁচটি সাব-সেক্টর। ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতির ক্ষেত্রে তিনটি সাব-সেক্টর, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আছে পাঁচটি সাব-সেক্টর এবং গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে চারটি। এভাবে অন্যান্য মানদণ্ডের ক্ষেত্রে আছে উপ-মানদণ্ড এবং মার্কিং ভাগ করে দেওয়া।
আইএমইডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চলমান রয়েছে ১ হাজার ১৭২টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৮৬টি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ২৩টি, কারিগরি সহায়তার ১০৯টি, উন্নয়ন সহায়তা (থোক) ৯টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে ৪৫টি। এসব প্রকল্প মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করছে আইএমইইডি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলমান প্রকল্প ছিল ১ হাজার ১৭২টি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৬৩টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৬৮৬টি।