Image description

এক সময় নারীকে সম্পত্তির মালিক মনে করা হতো না। ইসলাম উত্তরাধিকার সম্পদে নারীর নির্ধারিত অংশ নিশ্চিত করে দিয়েছে। এটি মানুষের রচিত কোনো আইন নয়, বরং মহান আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যে সম্পদ রেখে যায়, তাতে পুরুষের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যে সম্পদ রেখে যায়, তাতে নারীরও অংশ রয়েছে, সে সম্পদ কম হোক বা বেশি। এটি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নির্ধারিত অংশ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৭)। সুরা নিসার ১১, ১২ ও ১৭৬ নম্বর আয়াতে মা, স্ত্রী, মেয়ে ও বোনের অংশ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

 

উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘কন্যার মিরাস তিন অবস্থায় তিন রকম হয়’ তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

 

‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

ইসলামি শরিয়া ও ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত। তবে পরিবারে ছেলের উপস্থিতি বা অন্য কন্যাসন্তানের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে কন্যার প্রাপ্য অংশের পরিমাণে পরিবর্তন আসে। ফারায়েজ শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃতের সম্পত্তিতে কন্যার মিরাস বা উত্তরাধিকার প্রধানত তিন অবস্থায় বণ্টিত হয়ে থাকে।

 

১. একজন মেয়ে থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি শুধু একজনই মাত্র মেয়ে থাকেন এবং কোনো ছেলে না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে মেয়ে মৃত বাবা বা মায়ের রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন।

 

২. একাধিক মেয়ে থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি দুই বা ততোধিক (একাধিক) মেয়ে থাকেন এবং কোনো ছেলে না থাকে, তবে তারা সবাই যৌথভাবে মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন ভাগের দুই ভাগ অংশ পাবেন। এই অংশ তারা নিজেদের মধ্যে সমহারে ভাগ করে নেবেন।

 

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৭। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৭। ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

৩. ছেলের উপস্থিতিতে (আসাবা হিসেবে): মেয়ের সঙ্গে যদি মৃত ব্যক্তির ছেলেও বিদ্যমান থাকেন, তবে সে ক্ষেত্রে মেয়ে সরাসরি সুনির্দিষ্ট অংশের উত্তরাধিকারী (জাবিল ফুরুজ) না হয়ে ‘আসাবা’ (অবশিষ্টাংশভোগী) হয়ে যাবেন। এ অবস্থায় ফারায়েজের নীতি অনুযায়ী ‘এক পুত্র দুই কন্যার সমান’ অর্থাৎ প্রত্যেক ছেলে প্রত্যেক মেয়ের দ্বিগুণ পরিমাণ অংশ পাবেন।

লেখক পরিচিতি

গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।