ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সঙ্গে সাত বছর কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোবাশ্বেরা খানম রাথী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মা-মেয়েসহ মুক্তি পান আট জন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন কামরুন্নাহার মনি। কারাগারেই মোবাশ্বেরা খানম রাথী নামে কন্যা সন্তান জন্মদেন তিনি। মায়ের পেটে থেকেই কারাবন্দি জীবন শুরু তার। দীর্ঘ সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।
মুক্তি প্রাপ্ত অন্যরা হলেন— মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আব্দুর রহিম শরীফ।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনি বলেন, আমার বাচ্চাকে দ্বিতীয় শ্রেণির বই পাড়াচ্ছি। কোরআন পড়ানো শিখিয়েছি। আমার মেয়েকে কোরআনের শেষের এক পারা মুখস্থ করাইছি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব কারাগারের ভেতর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পায়ের মোজা দিয়ে মেয়েকে পুতুল বানিয়ে দিয়েছি। কারণ কোনো কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। সেই পুতুল দিয়ে মেয়ে খেলা করতো। জামা কেটে স্কুল ব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সেই ব্যাগ নিয়ে সে স্কুলে যেত।
এদিকে তাদের মুক্তির খবর শুনে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফুল হাতে কারাগারের সামনে মুক্তিপ্রাপ্তদের অপেক্ষায় স্বজনরা। বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস পরিবারের চোখে-মুখে। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে।
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।