Image description

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধের জেরে মরদেহটির শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মরদেহটি হিমঘরে রাখা হয়েছে। এদিকে শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুল হুদা তার মরদেহ হিমঘরে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ শুনানি শেষে শুভর মরদেহ হিমঘরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার ধর্ম ও পরিচয় নিয়ে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত দেননি।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে শুভর মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা জেনেছি, শুভর বাবা ছাড়া পরিবারের সবাই মুসলিম হয়েছেন। শুভ মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তিনিও মুসলিম হয়েছেন। তবে ভোটার আইডি কার্ডে নাম পরিবর্তন করেননি।’ 

দুই ভাই একসঙ্গে মুসলিম হয়েছেন জানিয়ে শুভর ভাই ইবরাহিম বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হয়েছি। আমি এখন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি। আমার ভাই মুসলমান। সুতরাং তাকে কবরস্থ করা হবে। তার স্ত্রী-সন্তানও মুসলিম। মাও দাফনের কথা বলেছেন।’

 

তবে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু ধর্মে জন্মেছেন। তাই তিনি ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করতে চান।

পুলিশ জানায়, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। এরপর শুভ, তার মা এবং এক ভাই ও এক বোন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। শুভ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘বিল্লাল’ নাম রাখেন। তিনি মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী যুথি আক্তারও মুসলিম। তাদের সন্তানের নাম সুমাইয়া আক্তার। 

এদিকে তার ধর্ম নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিরোধের জেরে শুভর মরদেহ প্রথমে সদর মডেল থানার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্রিজে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শুভর ধর্ম নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালত দেখবেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’ 

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ এবং পাঁচটি গুলির খোসা, ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবার বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ১০-১২ জনের একটি দল ঘিরে ফেলে। পরে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশের ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ।