দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের লেডিফ্রে এলাকায় ডাকাতের গুলিতে জামাল বেপারি নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত দুই দিনে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।
৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে লেডিফ্রে এলাকায় জামাল বেপারীর দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্র জানায়, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দোকানের ছাদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা জামাল বেপারীর হাত-পা বেঁধে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়ে ডাকাতরা। এরপর দোকানের মালামাল নিয়ে তারা চলে যায়।
পরে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা জামাল বেপারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় বলে জানা গেছে।
এদিকে, একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। কমিউনিটি সূত্র জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের পিটার্সবার্গ এলাকায় মনির হোসেন নামের এক প্রবাসী হৃদ্রোগে মারা যান। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়।
একই দিন দেশটির ব্লুমফন্টেইন এলাকায় শাহ আলম নামের আরেক বাংলাদেশি হৃদ্রোগে মারা যান। তার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায়।
এ ছাড়া ফ্রি স্টেট প্রদেশের বেলকম এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেদোয়ান উল্লাহ মারা যান। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। তিনি মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
দুই দিনে চার বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জামাল বেপারীর মরদেহ দেশে পাঠানোসহ তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে চার বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।