গাজার ২২ হাজার আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনির জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ প্রতিদিন ১ হাজার রোগীকে গাজা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। এতে প্রতিদিন ১ হাজার আহত ও অসুস্থ মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতের বিষয়ে ইসরায়েল যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দেশটির সীমান্ত কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মানুষ বের হয়ে গেছেন। একই সময়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ গাজায় ফিরে এসেছেন।
ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ বলেন, ‘অক্টোবর থেকে গাজা থেকে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি বের হয়েছেন এবং ৬ হাজার ফিরে এসেছেন—ইসরায়েলের প্রকাশিত এই সংখ্যা খুবই কম। গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই সংখ্যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।’
তিনি বলেন, গাজায় ২২ হাজার আহত ও অসুস্থ মানুষ বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে। প্রতিদিনই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
আল-থাওয়াবতেহ অভিযোগ করেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করে ইসরায়েল ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ও ধীরে ধীরে মৃত্যুর’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, আহত ও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন ১ হাজার জনকে গাজা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য সব সীমান্ত ক্রসিং দ্রুত ও পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
এ ছাড়া গাজার বাইরে থাকা প্রায় ৯০ হাজার ফিলিস্তিনির ফিরিয়ে আনার দাবির প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আল-থাওয়াবতেহ। তিনি বলেন, রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সীমান্ত ক্রসিংকে ‘সমষ্টিগত শাস্তির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক মানুষকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গাজার ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের ব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
আগস্টের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছিলেন, গাজার হাজারো রোগী এখনও জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আগস্টের শেষ সপ্তাহে রাফাহ ও কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১০৬ জন রোগীকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন শিশু ছিল। রোগীদের সঙ্গে আরও ১৩২ জন ছিলেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। এতে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে অবস্থান করছেন।