প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এ সময় তিনি মায়ের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চিন্ময়কে নিয়ে পুলিশ হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামের পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছায়। তিনি প্রথমে মূল মন্দিরে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর তাকে মায়ের মরদেহের কাছে নেওয়া হয়। স্বজন ও বিপুল সংখ্যক ভক্ত বৃষ্টির মধ্যে সেখানে ছিলেন। চিন্ময় ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এরপর চিন্ময় মরদেহের সঙ্গে পুণ্ডরীক ধামের গোকূল শ্মশানঘাটে যান। কীর্ত্তনে অংশ নেন। প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি আবার মূল মন্দিরে যান।
চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) আজ বৃহস্পতিবার সকালে পুণ্ডরীক ধামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মায়ের মৃত্যুর জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাকে শর্তসাপেক্ষে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তির অনুমতি দেন। বিকেল ৪টায় তাকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে যায় জেলা পুলিশের একটি টিম।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বললেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মায়ের সৎকারে অংশ নিয়েছেন। পুণ্ডরীক ধামসহ আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হবে।’
কারাবন্দি চিন্ময় পুণ্ডরীক ধামের সেবায়েত ছিলেন। তার পৈতৃক নাম চন্দন কুমার ধর। চিন্ময় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্রও। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা আছে।