জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়া লঘুদণ্ড বাতিল করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এসব কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল করে পৃথক আদেশ জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
নতুন করে লঘুদণ্ড থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন কর অঞ্চল-২, চট্টগ্রামের উপকর কমিশনার মোসা. নুশরাত জাহান শমী, কর অঞ্চল-৪, চট্টগ্রামের যুগ্ম কর কমিশনার মেসবাহ উদ্দিন খান এবং কর অঞ্চল-৭, ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা।
আইআরডির আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে এনবিআরকে বিভক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর প্রতিবাদে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনে কয়েকজন কর্মকর্তা সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। আবার কেউ কেউ দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নেন।
আন্দোলনের একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন এবং সরকারি আদেশ অমান্যের শামিল ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড কমানোসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। কারও ক্ষেত্রে চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে আন্দোলনে জড়িত অন্তত ৩৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নতুন করে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মকর্তার মধ্যেও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্ট আদেশে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ২১ কর্মকর্তার ওপর আরোপিত শাস্তি প্রত্যাহার করা হয়। কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করে দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আন্দোলনের সময় নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমন এবং চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো শাস্তি ছিল। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুরের ধারাবাহিকতায় একের পর এক কর্মকর্তার লঘুদণ্ড বাতিল করা হচ্ছে।