Image description

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতকে (২৮) রাজশাহীতে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলার পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা হয়। পরে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিন বছর আগে ক্যানসারে মারা যাওয়া মায়ের কবরের পাশেই শেষ ঠিকানা হলো এই তরুণের।

এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আজ সকালে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে দুপুর একটায় মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর জন্মস্থান বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে। কফিনবন্দি রিফাত বাড়িতে পৌঁছাতেই পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ছুটে আসেন স্বজন, প্রতিবেশী ও আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ।

চার ভাই-বোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েন তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলাম। স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন ও আড়াই বছর বয়সি কন্যাসন্তান জুঁইকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন রিফাত। স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা তাঁর স্ত্রী। বাবাহারা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।

জানাজার আগে সবার উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের বাবা। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার আত্মীয়স্বজন, রিফাতের বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীরা আছে। রিফাত সবার সঙ্গে চলাফেরা করেছে। একটা মানুষের ভুলের শেষ নাই, চলতে গেলে অজান্তেই ভুল হয়ে যায়। আপনারা তাকে নিজের ছেলে, ভাই বা বন্ধু মনে করে ক্ষমা করবেন।’

জানাজায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে সামরিক মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। এরপর শেষ আনুষ্ঠানিকতা শেষে মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জানা গেছে, তাসনিম রিফাত ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি আর্মার্ড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বাহিনীতে তিনি মোট ৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন কর্মরত ছিলেন।