Image description

নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানসহ হারপিক পান করায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত শিশুটির বয়স ৫ বছর। গুরুতর অবস্থায় আড়াই বছর বয়সী ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মৃতরা হলেন উর্মি (২২) ও তার মেয়ে মিম (৫)। চিকিৎসাধীন শিশুটির নাম আবির হোসেন। উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তারা মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকার শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়ায় বাসায় থাকতেন।

শুক্রবার দুপুরে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম মাধবদী থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আজ দুপুরে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তার স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে পেটান। এরই জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিক পান করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।