গত ৩১ আগস্ট রাতে ভোরের কাগজের বার্তা সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দিনের নির্দেশে পত্রিকা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা। সে সময় বেঙ্গল লেন্স থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পত্রিকা বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
নব্বইয়ের দশকে শুরু হওয়া দেশের সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভোরের কাগজের ছাপা সংস্করণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মৌখিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়ে গোপনে কিছু সংখ্যক পত্রিকা বের করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শুধু অনলাইন সংস্করণ ও ই-পেপারে দেখা যাচ্ছে পত্রিকাটি। কোনো পত্রিকা বিক্রয়কেন্দ্র বা হকারদের কাছেও পাওয়া যাচ্ছে না ভোরের কাগজ।
গত ৩১ আগস্ট রাতে ভোরের কাগজের বার্তা সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দিনের নির্দেশে পত্রিকা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা। সে সময় বেঙ্গল লেন্স থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পত্রিকা বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
প্রতিষ্ঠানটির এইচআর অ্যাডমিন মো. সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বেঙ্গল লেন্সকে জানান, ভোরের কাগজে তিনি জব করেন না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এখনও এইচআর অ্যাডমিনের দায়িত্ব পালন করছেন।
পত্রিকা বন্ধের ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের অন্তত দুই মাসের বেতন বকেয়া ছিল। এর বাইরে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ বা বেনিফিট সংবাদকর্মীদের দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মৌচাকে অবস্থিত ভোরের কাগজ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পত্রিকার ছাপা বিভাগটি সম্পূর্ণ খালি, সুনসান-নীরব। সবগুলো চেয়ারই ফাঁকা।
ভোরের কাগজের একাদিক সংবাদকর্মী বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন অপেক্ষয়মান ছিল সে সব প্রতিষ্ঠানে পত্রিকার কপি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপশি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পত্রিকার কিছু কপি পাঠানো হচ্ছে।
পত্রিকাটির বর্তমান সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একাধিক মামলায় বর্তমানে কারাবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে।
পত্রিকাটির প্রকাশক মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
এর আগে ২০২৫ সালে পত্রিকাটি বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েক মাস পর আবার পুনরায় চালু করা হয়।
সে সময় ভোরের কাগজের নির্বাহী সম্পাদক এ কে সরকারের সই করা নোটিশে বলা হয়, ‘ভোরের কাগজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১২ ধারা অনুযায়ী মালিকের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যা ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।’
তবে এবার কী কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি মালিক পক্ষের কেউ।
এ বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, কিছুদিন পরপর প্রতিষ্ঠানগুলো বেআইনিভাবে কর্মী ছাঁটাই করছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ভোরের কাগজ থেকে লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি। এছাড়া যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাঁদের পক্ষ থেকে এখনও ইউনিয়ন অফিসে জানানো হয়নি। তবে আমরা খোঁজ রাখার চেষ্টা করছি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, যেসব গণমাধ্যম সংবাদকর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন করছে, সেখানে কাজ করছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংবাদকর্মীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সর্বোচ্চ লড়াই করে থাকি আমরা। ভোরের কাগজে সংবাদকর্মীদের পাওনা-দেনা বাকি থাকলে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।