জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলের কোনো প্রশ্ন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় বিরোধীদলের প্রশ্ন না থাকার কারণ হিসেবে প্রশ্ন জমা দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানি প্রতি বুধবার প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে আসেন এবং ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে। আজকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছিল, সেখানে ৮টি প্রশ্ন ছিল; যার সব কটি সরকারি দলের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আমরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিই, এবং চারটি প্রশ্ন আমাদের প্রাপ্য ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আজকে সব কটি সরকারি দলের ছিল। আমরা মনে করি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, আমাদের জবাবদিহির সংস্কৃতিটা তত বেশি শক্ত হবে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের উত্তরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে বিবেচনা করব।’
স্পিকারের বক্তব্য শেষ হতেই দাঁড়িয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকার জবাবদিহিমূলক হতে চায়। আর জবাবদিহি নিশ্চিত করে বিরোধী দল। সেখানে আমরা সরকারি দল বা বিরোধী দল না—প্রশ্নের নিয়ম অনুযায়ী যিনি আগে দেবেন, তিনি আগে পাবেন। এবং এটা স্পিকার বাছাই করেন। এখানে বিরোধীদলীয় সদস্যরা যদি পিছিয়ে পড়েন, এটা তাদের অসুবিধা। আবার সরকারি দল পিছিয়ে পড়লে এটাও অসুবিধা। কাজেই সবাই যাতে প্রশ্ন করতে পারেন, সেটি আমরা প্রত্যাশা করি। সুতরাং পরবর্তীতে বিরোধী দল যাতে এ সুযোগ পায়, আমরা সেটি লক্ষ্য রাখব।’
চিফ হুইপের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্পিকার বলেন, ‘প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর জমা দেওয়ার সময় একটি ক্রম বজায় রাখা হয়। এছাড়া প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়। আশা করি বিরোধী দলের সদস্যরা এটি অনুসরণ করে ক্রমানুসারে আগে থাকার চেষ্টা করবেন। নিশ্চয়ই আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। তবে এটি একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। যে আগে আসে, তার প্রশ্ন আগে গ্রহণ করা হয়। আমরা অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করব। আপনারা সতর্ক হয়ে প্রশ্ন জমা দেবেন বলে আশা রাখছি।’