জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন নাশকতার মামলায় গ্রেফতার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন তিনি। মায়ের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশি পাহারায় তাকে আবার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাশেদুল ইসলাম জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌমুনী বাজার এলাকার ধনতলা গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের জয়পুরহাট জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় গত ২২ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রোকজনিত কারণে রাশেদুল ইসলামের মা রহিমা বিবি (৯৫) মঙ্গলবার সকালে মারা যান। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয় জেলা প্রশাসনের কাছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশি পাহারায় তাকে প্রথমে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মায়ের মরদেহের পাশে অবস্থান করেন তিনি। পরে একই অবস্থায় মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশি পাহারায় তাকে আবার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার উম্মে সালমা বলেন, “এ ঘটনায় ওই আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে তিন ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে মায়ের জানাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যথাসময়ের মধ্যে আবারও পুলিশি পাহারায় তাকে কারাগারে নিয়ে আসা হয়।”