আবারও চারটি বিলাসবহুল নতুন গাড়ি কেটে চার টুকরো করে এনেছে আমদানিকারক ক্রাউন অটোমোবাইলস। ৪০ ফুটের কন্টেইনােরে আনা এসব গাড়ি রাখা হয়েছিল পেছনে। আর নজর এড়াতে কৌশল করে সামনের দিকে রাখা হয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। আমদানিকারক ঘোষণা দিয়েছিল ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ।
জাহাজ থেকে নামিয়ে এই কন্টেইনার রাখা হয়েছিল বিদেশি অপারেটর রেডসী গেইটওয়ে পরিচালিত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)এ। একমাস ধরে চালান খালাসের প্রক্রিয়া শুরু না করায় কাস্টমস গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষার পর শুল্ক ফাঁকির বড় অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে প্রায় ১২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছিল আমদানিকারক।
আটক গাড়ির মধ্যে রয়েছে দুটি লেক্সাস ব্রান্ডের 'এলএক্স ৬০০' এসসি ৪৩০' মডেলের। 'এম৫' মডেলের বিএমডব্লিউ গাড়ি। 'বি১৮সি' মডেলের 'হোন্ডা ব্রান্ডের গাড়িসহ গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
পিসিটিতে বিকালে কন্টেইনার খুলে গাড়ি দেখানো হয়। সেখানে চালান আটকের বিস্তারিত জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন। তার ভাষ্য, ১০ জুলাই চালান পিসিটিতে পৌঁছানোর এক মাসেও বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি আমদানিকারক। পণ্য রাখার সময় পার হওয়ার পর নিলামের মাধ্যমে সেগুলো কেনার নতুন কৌশল নিয়েছিল প্রতিষ্ঠান। তার আগেই ধরা পড়ল।
তিনি জানালেন, গাড়ি কী পরিমান শুল্কফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসাথে চালানটির আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি অর্থপাচারের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপান থেকে কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮,০১৮ কেজি পণ্য আমদানির ঘোষণা দেয়। ঘোষণায় এগুলোকে ব্যবহৃত মোটরযানের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রোল ইঞ্জিন হিসেবে দেখানো হয়। এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষনার কারণে নামমাত্র শুল্কে তা খালাসের চেষ্টা ছিল। এসব গাড়ির হিসাবে আমদানি হলে শুল্কায়ন মূল্যের উপর সরকার ১০৩ শতাংশ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো।
এর আগে মোংলা বন্দরে একই কৌশলে তিন থেকে চারটি বড় টুকরো করে কেটে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান আটক করেছিল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এর জের ধরে গত বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে আটক হয়েছিল বিলাসবহুল গাড়ি। খোঁজ নিতে গিয়ে একই কৌশলে আনা গাড়ির একটি বড় চালান কক্সবাজারের একটি হোটেলর সামনে থেকে আটক করেছিল গোয়েন্দা সংস্থাটি।