পটুয়াখালীর বাউফলে ৫৫ নম্বর দক্ষিণ রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাসনাইন হোসেন সোহেলের (৪৮) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্বাচন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা নজরুল খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন সোহেল। তবে নজরুল খান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি হামলা নয়, প্রতিরোধ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে উত্তর সাবুপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দেবনাথ প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করা হয়। পরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাসনাইন হোসেন সোহেল। একপর্যায়ে তার সঙ্গে বিএনপি নেতা নজরুল খানের তর্ক হয়। পরে নজরুল খান ও তার সহযোগীরা সোহেলের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সোহেল আহত হন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। তাদের দাবি, ম্যানেজিং কমিটির সভায় ছয়জন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হয়। কিন্তু ওই সভায় পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ফলে কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় সভাপতি নির্বাচন করার সুযোগ ছিল না। এরপরও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শাজাহান খানকে সভাপতি ঘোষণা করেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বপন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘যেহেতু একমাত্র প্রার্থী শাজাহান খান এবং তার নাম প্রস্তাব ও সমর্থনে এসেছে, দ্বিতীয় কোনো প্রার্থী না থাকায় আমি তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছি। এতে আমার কোনো অপরাধ আছে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এই ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দেবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে ছয়জন সদস্য থাকা দরকার। তবে ইউএনও স্যার বলেছেন, প্রধান শিক্ষক বারবার নোটিশ দিয়ে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর পরও অনেকে আসছেন না। তাই যতজন উপস্থিত পাওয়া যায়, তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে কাগজপত্র দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।’
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা নজরুল খান বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির মিটিং উপলক্ষে আমাকে দাওয়াত করা হয়েছিল, তাই আমি এখানে এসেছি। ভুয়া জমিদাতা হিসেবে এই স্কুলে দীর্ঘদিন রাজত্ব করে গেছে। তাদের কারণে অন্য কেউ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। আমি হামলা করিনি, প্রতিরোধ করেছি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেনি। ডিএসবি সদস্যদেরও জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আমি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’