Image description

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নয়, এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) নিয়োগ দেবে। অর্থাৎ আগের মতো প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হবে প্রার্থীদের।

আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে হবে বিষয়টি জানতে আগামীর সময়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানালেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ বা নিবন্ধন পরীক্ষা আগের মতোই নেওয়া হবে। অর্থাৎ এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হবে।’

কিছুদিন আগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে—এমন দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল–সংগঠনও বিবৃতি ও বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানায়। এ ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বিভিন্ন মহল থেকে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ১০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি।’

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর অধীন পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে হয়। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। সম্প্রতি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে লিখিত পরীক্ষাও হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

 

 

১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের আলোচনার সিদ্ধান্ত হিসেবে সেখানে উল্লেখ ছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

ওই কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয়েছিল, এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আগের মতো তাদের মাধ্যমে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যয়ন করা শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।