Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প একটা জিনিস চেয়েছে যে, আমাদের বোয়িংগুলি ইউজ করেন। আমরা করছি, আমরা কিনছি। ১৪টি বোয়িং কিনছি, আরও আমরা লিজ নিবো।’

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা জানান। গত ২৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে। তাদের কেউ একটি, কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই অনুযায়ী জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মিল্লাত ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোণায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য গত দায়িত্ব পান।

সেই সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গ আসে। এসময় মন্ত্রী আরও জানান, ‘আমরা এদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে যে এয়ারবাস তৈরি হয়, সেখান থেকে ওদের কাছে কিনছি, ওদের কাছেও কিনবো। আমরা সবকিছুই বাড়াবো, ভালো করবো। আমরা দেশকে উন্নত করবো।’

এসময় প্রশাসনের লোকজনকের যার যার যে দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন করারও আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখানে কিন্তু সকলেই যার যার দায়িত্ব আছে, শুধু দায়িত্ববান হলেই হলো, আর কিছু লাগবে না। আপনারা দয়া করে নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করবেন—এই আশা ব্যক্ত করি।’

এর আগে রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে এক্স হ্যান্ডেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে একটি পোস্ট দেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনি জানান, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

 

পোস্টে সার্জিও গোর উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘জবস’ প্রেসিডেন্ট। তিনি লাখ লাখ উচ্চ বেতনের চাকরি সৃষ্টি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। 

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এই সপ্তাহে, প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও একটি অবিশ্বাস্য চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশ আরও বোয়িং বিমান কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট আমেরিকা এবং আমাদের অংশীদারদের আবার মহান করে তুলছেন।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি অনুযায়ী, আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্ৰতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী গত ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)।