গরমের মধ্যে লোডশেডিং, তাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনাও চলছে। তার মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়াচ্ছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে, যা ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই ফটোকার্ডের বক্তব্যটি সত্য নয়।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গতকাল এবং আজও বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজে ফটোকার্ডটি আপলোড করা হয়।
ফটোকার্ডটিতে লেখা রয়েছে— ‘চাইনিজ ভাষায় তারা ‘চুংচাং’ কী সব বলছে। আমরা না বুঝে সায় দিচ্ছি। পরে দেখি ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ ২৫ টাকা।’
ফেসবুকে ‘NewsTime TV’ নামের একটি পেজ থেকে আজ শনিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ৬ হাজার ৭০০ বার শেয়ার হয়। এই পোস্টে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০টি প্রতিক্রিয়া পড়েছে, পোস্টের নিচে মন্তব্য জমা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার। আরও কিছু পেজ ও আইডি থেকেও একই বক্তব্য ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে চীনের কাছ থেকে ২৫ টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২৭ আগস্ট ‘জাগো নিউজ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা বিদ্যুৎ তাদের কাছ থেকে কিনবো ২৫ টাকা ইউনিট হিসেবে। প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে ২০২৮ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।’
তবে সেখানেও ফটোকার্ডের বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ‘NewsTime TV’ পেজটির ‘About’ সেকশনে এটিকে একটি ‘স্যাটায়ার’ বা ‘প্যারোডি’ পেজ হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে। পেজটিতে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্যাটায়ার ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।
দৃশ্যত, অনেকে পেজটির স্যাটায়ার বিষয়বস্তু বুঝতে না পেরে পোস্টটিকে সত্য ধরে নিয়ে ছড়িয়েছেন।