শিবালয়ের আলোকদিয়ার ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র’। তবে এ কেন্দ্রগুলো এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, শিবালয়ের আলোকদিয়ায় ফ্যাসিবাদের সময়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি মুজিব কিল্লা বা আশ্রয়কেন্দ্র। তবে বড় বাজেটের এই প্রকল্প জনগণের কতটা কাজে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না এলাকার মানুষ। বন্যার সময় গবাদিপশু রাখার জন্য এসব কেল্লা নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। বিশাল ভবনে সবকিছু থাকলেও নেই মানুষের বিচরণ। পরিত্যক্ত হয়ে আছে প্রায় ৫ বছর আগে নির্মিত এ মুজিব কিল্লা।
মুজিব কিল্লা ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় ময়লা-আবর্জনায় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। এগুলো কোনো কাজেই আসছে না। নির্মাণের পর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি। এলাকার মানুষ জানে না বিশাল এই ভবনগুলো ঠিক কী কারণে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বন্যা হলে এগুলোতে মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয় নেবে—এমন কথা বলা হয়েছিল নির্মাণের সময়। অথচ চরাঞ্চলের সব স্কুলেই রয়েছে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র।
জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এ মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়। বন্যা হলে গবাদিপশু রাখা এবং অন্য সময় সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানায় জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস।
আলোকদিয়ার ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেন জানান, আমি শুনেছি কথিত আশ্রয়কেন্দ্রটিতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলা হয়। তা ছাড়াও প্রকাশ্যে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে, ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কিল্লার ভেতরে কয়েকজন মাদক সেবনে ব্যস্ত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তারা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মুজিব কিল্লায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সদস্য ও চরাঞ্চলের কিছু দুর্বৃত্ত নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে নানা অপকর্ম চালাচ্ছে। এ উপজেলায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গেও তারা জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে গাঁজা বিক্রি করছেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ, পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, মুজিব কিল্লা এখন আর নেই, এখন এটার নাম হয়েছে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র।