Image description
‘মিরাজকে কোস্টগার্ড উঠিয়ে নিয়ে যায়নি’-- এমন বয়ান প্রতিষ্ঠায় কোস্টগার্ডের আয়োজনে নিজেদের টিম পাঠিয়ে ফরমায়েশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে এখন টিভির নিউজরুমে অস্বস্তি বিরাজ করছে।
দ্য ডিসেন্ট এই প্রতিবেদনের জন্য বিভিন্ন তথ্য ভেরিফাই করতে এবং এখন টিভির নিউজরুমের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে বিভিন্ন পদবীর অন্তত ১১ জন ব্যক্তির সাথে কথা বলেছে।
এর মধ্যে এখন টিভির সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আবদুল্লাহকে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, তিনি ঢাকার বাহিরে, পরে কথা বলবেন। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
কথিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের স্পন্সর করা কোন কন্টেন্ট ছিলো কিনা জানতে চেয়ে তুষার আবদুল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠালে তিনি তা সিন করলেও কোনো উত্তর দেননি।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শাহরিয়ার জামান দীপ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা কোস্টগার্ডের গাড়ি ব্যবহার করিনি, কোস্টগার্ডের কোনো নৌযানও ব্যবহার করিনি। আমরা সেখানে নৌকা নিয়ে গিয়েছিলাম এবং এলাকার লোকজন তা দেখেছেন। আমরা যদি কোস্টগার্ডের নৌযান নিয়ে যেতাম, তাহলে এলাকাবাসী কিন্তু তা দেখতেন। আমরা ঘটনাস্থলে নৌকা নিয়ে গিয়েছিলাম। আর এখন টিভি কখনোই পৃষ্ঠপোষকতায় কোন অনুষ্ঠান করে না। শুধু কোস্টগার্ড কেন, অন্য কেউ টাকা দিয়ে কিছু করাতে চাইলেও এখন টেলিভিশন সে ধরনের কিছু প্রচার করে না। আর আমি যখন কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান করতে যাই, তখন আমার নিজের অনুসন্ধানে যা উঠে আসে, সেটাই তুলে আনি। কারও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমি অনুসন্ধান করি না। এটাই অনুসন্ধানের নিয়ম। কারণ সত্য তুলে আনাই হচ্ছে অনুসন্ধানের মূল উদ্দেশ্য।”
বাকি ৯ জন সংবাদকর্মীর সবাই নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
বিভিন্ন পদবীর এই ৯ সংবাদকর্মীর প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠানে মিরাজ শেখের গুমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ফরমায়েশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া নিয়ে অস্বস্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, অফিসে বাকিদের মধ্যে সিনিয়র জুনিয়র অনেকেই তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন।
এখন টিভির একজন সংবাদকর্মী বলেছেন, “এই রিপোর্ট যাওয়ার পর নিউজরুমের প্রায় সবাই বিরক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে একটা বাহিনীর স্পন্সরে ট্যুরে গিয়ে একটা গুমের ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়টি অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি।”
এই প্রতিবেদনের জন্য প্রতিবেদককে কার পক্ষ থেকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল তা জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অন্তত তিনজন সিনিয়র সংবাদকর্মী জানান, এসাইনমেন্ট ডেস্ক থেকে এই প্রতিবেদনের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
তিনটিই সূত্রই বলেছে, এই এসাইনমেন্ট এডিটোরিয়াল হেড তুষার আব্দুল্লাহ নিজেই দিয়ে থাকতে পারেন।
একজন বলেছেন, “শাহরিয়ার জামান দীপ সরাসরি তুষার আব্দুল্লাহর অধীনে কাজ করেন। দীপ নিউজ টিমের লোক নন। সম্প্রতি তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে একটি ক্রাইম শো শুরু করার জন্য। চলতি আগস্ট মাসে তার নিয়োগের পরে কখনো এসাইনমেন্ট ডেস্কের রোটাতে তার নাম ছিল না।”
আরও দুইজন দীপের নিউজ টিমে না থাকার তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
ভিন্ন আরেকজন সংবাদকর্মী বলেছেন, “স্ক্রিপ্টে তুষার ভাইয়ের ছোঁয়া আছে, মনে হচ্ছে। সকল গণমাধ্যম যখন এই ঘটনাকে গুম বলছে, তখন গুমের পক্ষে ন্যারেটিভ উৎপাদনের জন্য মাঠে নেমেছে এখন টেলিভিশন।”
তিনি আরও বলেন, “এ রিপোর্টে সবাই মিরাজের এবং মিরাজের পরিবারের বিপক্ষে কথা বলেছে, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের কারো বক্তব্য নেয়া হয়নি।”
একাধিক সংবাদকর্মী জানান, এখন টিভির অফিসিয়াল নিয়ম হচ্ছে কোন প্রতিবেদক কোন এসাইনমেন্টে গেলে অফিসের গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বাগেরহাটে মিরাজ শেখের ঘটনায় প্রতিবেদক ও ভিডিও জার্নালিস্ট অফিসের গাড়ি নেননি।
 
-কদরুদ্দীন শিশির