Image description

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদরদপ্তরের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন (এপ্রিল-জুন) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। খবর ইউএনবির।

অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাস শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি—এমন অস্ত্রকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

আরও বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।