বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যাবে কিনা- তা নিয়ে চলছে জল্পনা। রাজনীতির ময়দান থেকে আলাপ পৌঁছে গেছে সংসদেও। বাংলাদেশের পদক্ষেপ নিয়ে ভারতের ‘নজরদারি’ এ বিষয়কে করে তুলেছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
প্রতিবেশী ভারত একাধিকবার জানিয়েছে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে রাখা হচ্ছে নজর।
গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’
সে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বললেন, ‘ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদানের প্রস্তাব এলে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। মক্কা প্যাক্ট ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।’
এর আগে গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি।
সম্প্রতি মক্কা চুক্তি সই করে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। মার্কিন মিত্র তিন মুসলিম দেশের এ উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আঘাত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ দিন সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বললেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট কিনা সেটি বিষয় না। বিষয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানালেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।