ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘গান বন্ধ’ ইস্যুতে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন গাজীপুর বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান খতিব হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই ফোনালাপের বিষয়টি তুলে ধরেন আবদুর রহিম আল মাদানী। তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নেওয়ার পর দেখেন হাসনাত আবদুল্লাহ তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করছেন। পরে তিনি কলটি রিসিভ করেন।
আবদুর রহিমের দাবি, কুশল বিনিময়ের পর হাসনাত গত দুই দিন ধরে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, সমালোচনা ও গালাগালির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিতে চান।
মাদানী জানান, তিনি হাসনাতকে বলেন, তার লেখায় ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ ছিল না; বরং একজন আপন মানুষকে নিজের অনুভূতির কথা বলার মতো করেই তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ফেসবুক পোস্টে মাদানী আরও বলেন, রাজনীতিতে ডান ও বাম—দুটি ভিন্ন ধারা রয়েছে।
মানুষ হাসনাত আবদুল্লাহকে ডানপন্থী হিসেবেই চিনেছে এবং তার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে তাওহিদী ও ডানপন্থী জনগোষ্ঠীর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গান-বাজনা বন্ধের বিষয়ে হাসনাত তাকে বলেন, এ ধরনের অবস্থান সরাসরি প্রকাশ করলে একটি মহল বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান হয়েছে বলে প্রচার করতে পারে। জবাবে মাদানী বলেন, এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই এবং দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
মাদানী আরও জানান, হাসনাত তাকে প্রশ্ন করেন—এ দায়িত্ব আলেম-ওলামা বা সাধারণ মানুষ কেন নেবেন, রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এর দায়িত্ব নেবেন না।
জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করবে, তবে একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে হাসনাতের বক্তব্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তাই তার বক্তব্যে দীর্ঘদিনের সমর্থকদের কেউ কষ্ট পেলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
ফেসবুক পোস্টে মাদানী দাবি করেন, হাসনাত আরও বলেন, এখন দুঃখ প্রকাশ করলে অন্য পক্ষ বলতে পারে যে তিনি ডানপন্থীদের চাপে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এর জবাবে মাদানী তাকে নিজের বিবেচনায় সঠিক মনে হওয়া কথা বলার পরামর্শ দেন এবং তার রাজনৈতিক শক্তির একটি বড় অংশ তাওহিদী জনগোষ্ঠী—এ বাস্তবতা উপেক্ষা না করার আহ্বান জানান।
মাদানী বলেন, তিনি হাসনাতকে রাশেদ খান মেনন কিংবা হাসানুল হক ইনুর রাজনৈতিক ধারার নেতা হিসেবে দেখতে চান না। বরং শহীদ ওসমান হাদীর সাহস, দেশপ্রেম ও স্পষ্টবাদিতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, হাসনাত তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ এবং সামনে তার অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বাস্তবতাকে উপেক্ষা না করে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাতের সফলতা কামনা করে মাদানী বলেন, তারা তার পতন বা ব্যর্থতা চান না; বরং দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানো একজন সফল নেতা হিসেবে তাকে দেখতে চান।
শীর্ষনিউজ