Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে (৩৫) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার ব্যবহৃত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এর আগে সোমবার বিকালে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন বাপ্পী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে অস্ত্রটি জমা দেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাপ্পীকে আটকের পর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবি হেফাজতে দেয় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৪টার দিকে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আটকের তথ্য জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। তখন তিনি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য জানাননি। শুধু বলেছেন, ‘তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

 

বিকালে বাপ্পীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রণব কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাপ্পী কেন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তার অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনও শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কিনা এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও বিষয় জড়িত আছে কিনা, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে বাপ্পীর দাবি, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হুমকিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে বাপ্পী নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন। ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাতে থানায় গিয়ে বাপ্পী তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি জমা দেন। পরে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ ওই নেতাই তাকে শেল্টার দিচ্ছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

বাপ্পীর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনও সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে গ্রেফতার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’