নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে ১৪ দিন বয়সী নবজাতককে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহতের মাকে (১৯)।
এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার ওই নারী বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে সৌরভের নবজাতক শিশু নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, ‘জিনে নিয়ে গেছে।’
এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত, ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিত না বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী মাকে একমাত্র আসামি করে মামলা নেওয়া হয়।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. শামসুজ্জামান আরও বলেন, ‘নবজাতকের মা তাকে বসতঘরে থাকা বৃষ্টি পানি রাখার ড্রামে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।’