Image description

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের ঠিক আগে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর শরীরে বাসা বেঁধেছিল ভয়াবহ যক্ষ্মা। চিকিৎসকেরা জানতেন, তার হাতে সময় খুব বেশি নেই। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ করেননি বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) দুই পারসি চিকিৎসক। তাদের ধারণা ছিল, জিন্নাহ আর এক-দুই বছরের বেশি বাঁচবেন না। জিন্নাহর অসুস্থতার সেই গোপন তথ্য হয়তো ভারত ভাগের ইতিহাসও বদলে দিতে পারত। ৭৮ বছর পর সেই গোপনীয়তা রক্ষার জন্য দুই চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।

জিন্নাহর শেষ পর্যায়ের অসুস্থতার তথ্য শুধু তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অবদান রাখায় চিকিৎসক ডা. জাল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ডা. জাল ধায়ভো-কুকে নিশান-ই-ইমতিয়াজ দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছে পাকিস্তান। পুরস্কার কমিটির প্রধান ও পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল দিয়েছেন এ ঘোষণা।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আহসান ইকবাল জানান, ১৯৪৬ সালে ডা. প্যাটেল ও ডা. ধায়ভো-কু জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তার যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তার হাতে আর মাত্র এক-দুই বছর সময় রয়েছে। তবে তারা তার অসুস্থতার ভয়াবহতা সম্পর্কে পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রাখেন। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই তথ্য প্রকাশ পেলে দেশভাগ এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময়কালই বদলে যেতে পারত।

আহসান ইকবাল লিখেছেন, ‘পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দুই অসাধারণ চিকিৎসককে নিশান-ই-ইমতিয়াজের জন্য মনোনীত করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। একজন চিকিৎসক ও অন্যজন রেডিওলজিস্ট, দুজনই বোম্বের পারসি সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রাণঘাতী অসুস্থতার তথ্য গোপন রেখেছিলেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে পরম পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চিকিৎসকেরা নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা করেছেন। পেশাগত শপথের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা অনিচ্ছাকৃতভাবেই এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, যা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলেছিল।’

জিন্নাহর মৃত্যুর ৭৮ বছর পর ডা. প্যাটেল ও ডা. ধায়ভো-কুকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মরণোত্তরভাবে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরে স্বীকার করেছিলেন, জিন্নাহ কতটা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তা তিনি জানলে হয়তো দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন। এতে ইতিহাসের গতিপথ ভিন্ন হতে পারত।

সে সময় যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি রোগ। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও তখন ছিল না। জিন্নাহ তার অসুস্থতার গুরুতর অবস্থার কথা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলে জানা যায়। তার আশঙ্কা ছিল, এ তথ্য প্রকাশ পেলে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। দেশভাগের মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের যক্ষ্মায় মারা যান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি