অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন দুই আসামি। তবে এরপরও কিছু বিষয় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটিয়েছে, সৃষ্টি করেছে ধোঁয়াশা।
জানা গেছে, এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। তবে মামলায় ব্যাংকটির ক্যাশ ইনচার্জকে আসামি করা হলেও মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর (এফআইআর) কোথাও তার ব্যাংকার পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের সুনির্দিষ্ট অপরাধ হওয়ার পরও এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড হওয়া নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, থানায় রেকর্ড হওয়া মামলায় বাদ দেওয়া হয়েছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ দুদক আইনের ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারা এবং মানি লন্ডারিং আইনের ধারাও। এজাহারে ১৫ মাস ধরে অপরাধমূলক লেনদেনের কথা বলা হলেও আসামি করা হয়নি শাখা ব্যবস্থাপককে।
এ বিষয়ে জানতে দাপ্তরিক ফোন ও ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর রিসিভ করেননি। পরে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি।
একইভাবে প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার শাখা প্রধান এ বি এম সাইফুদ্দীন খান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কলা দেওয়া হলে তিনিও রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় গত ১০ আগস্ট ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন (৪১) এবং হাটহাজারী এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ১০ আগস্ট থানায় রেকর্ড হওয়া মামলাটির নং-২২। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ এবং ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় দেখানো হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়।
ব্যাংকটির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ব্যাংকটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত ৯ আগস্ট শাখার নিয়মিত ব্যাংকিং ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর শাখার নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে সংরক্ষিত নগদ অর্থে গরমিল পরিকল্পিত হয়
মামলা রেকর্ড হওয়ার দিনেই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে পুলিশে সোপর্দ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে জাফরুল্লাহ তানভীরকে আগেই কামরুল হোসেনের মাধ্যমে ব্যাংকে ডেকে আনা হয়। ওই দুই আসামিকে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিষয়ে জানতে মামলার বাদী এবং অগ্রণী ব্যাংকের জিএম মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকটির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ব্যাংকটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত ৯ আগস্ট শাখার নিয়মিত ব্যাংকিং ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর শাখার নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে সংরক্ষিত নগদ অর্থে গরমিল পরিকল্পিত হয়।
পরে শাখার প্রাথমিক হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য নথি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় যে, ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের মধ্যে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে। পরে ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত কামরুল হোসেনকে ব্যাংকের হিসাবে গরমিলের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সহায়তায় কামরুল হোসেন উক্ত ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দায়িত্বাধীন থাকাবস্থায় ব্যাংকের ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা স্থানান্তর করে ২নং বিবাদীর (মো. জাফরুল্লাহ তানভীর) নিকট ব্যবসায় বিনিয়োগ/ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন।
এদিকে কোতোয়ালি থানায় রেকর্ড হওয়া মামলা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে এ বিষয়ে সিএমপি, দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের।
চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতে দুদকের সাবেক স্পেশাল পিপি, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার হোসেন লাভলু জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎ হলে মামলাটি থানায় রেকর্ড হওয়ার সুযোগ নেই। এসব ঘটনা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। এসব মামলা দুদকে রেকর্ড হয়। এ ঘটনায় ৪০৮ ধারায় মামলা চলবে না। এখানে দুদক আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার, মানি লন্ডারিং আইন এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় মামলাটি রেকর্ড হওয়ার কথা। থানায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে।’
ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার দুজন/ফাইল ছবি
তিনি বলেন, ‘থানায় ইচ্ছে করেই মানি লন্ডারিংয়ের ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। আসামি তো ব্যাংকার। তার বিরুদ্ধে সাধারণ অর্থ আত্মসাতের মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। ৪০৯, মানিলন্ডারিং এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারার মামলা সুনির্দিষ্টভাবে দুদকে রেকর্ড হবে। এখানে থানায় অভিযোগ গেলে, সংশ্লিষ্ট থানা বিষয়টি জিডি আকারে নিয়ে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দুদক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন।’
এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম আদালতে দুদকের বর্তমান প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইনের সঙ্গে। তিনিও বলেন, ‘সারাদেশে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অনেক ঘটনাই ঘটে। গত ৫ বছর ধরে এসব ঘটনার মামলা দুদকেই রেকর্ড হয়। থানায় এসব মামলা রেকর্ড হওয়ার প্রশ্নই আসে না। থানায় এ ধরনের অভিযোগ এলে নিয়ম অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযোগটি দুদকে পাঠিয়ে দেবে। এ বিষয়টি তো থানার ওসির না জানার কথা নয়। যদি ভুল করেন তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি দুদকে পাঠানো হচ্ছে কি না দেখতে হবে। না পাঠালে মনে হবে, থানায় ইচ্ছে করেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।’
এদিকে থানায় রেকর্ড হওয়ার এফআইআর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোথাও আসামি কামরুল হোসেনের ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। বাদীর ব্যাংকার পরিচয়ও উল্লেখ নেই এফআইআরে। তাছাড়া এফআইআরের ৬নং কলামে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে- ‘পরস্পর যোগসাজশে কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করতঃ প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎসহ তৎকাজে সহায়তা করার অপরাধ’ বাক্যটি উল্লেখ করা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই (৬নং) কলামে সরকারি কর্মচারী কিংবা ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার শব্দগুলো উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, ‘অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদীর যোগসাজশে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের ভল্টে নগদ অর্থ জমা দেওয়ার সময় এক হাজার টাকার বড় বান্ডেলের ভেতর ১০০ টাকার এবং তারও ছোট ছোট নোট কৌশলে বান্ডেলের ভেতরে দিয়ে ভল্টে রেখে মনগড়ামতো ভল্টে মিলিয়ে রাখতো। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে গত ১০ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার কামরুল হোসেন এবং হাটহাজারীর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেফতার করে।’
সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৪০৮ ধারায় থানায় মামলা রেকর্ড করার সুযোগ রয়েছে কি না- জানতে চাইলে সিএমপির জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘থানা নিশ্চয়ই বুঝেশুনে মামলা নিয়েছে। নিশ্চয়ই অন্য কোনো কারণ আছে। বিষয়টি আমি দেখে বলছি।’ তবে পরে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।
যদি ওই ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের মতো কিছু হয়ে থাকলে আমরা মামলাটি অন্য সংস্থায় দিয়ে দিতে পারি। এখানে আসামি সরকারি কর্মচারী। তারা অর্থ আত্মসাতই করেছে। এখানে তদন্তে যদি মনে হয়, ঘটনা দুদকে যাওয়ার মতো, তাহলে মামলাটি দুদকে চলে যাবে।- হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, উপ-কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকের জালজালিয়াতি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তো দুদকের তফসিলভুক্ত। এ মামলা তো থানার তদন্ত করার এখতিয়ার নেই।’
এদিকে প্রায় ১৫ মাস ধরে ভল্ট থেকে টাকা সরানোর কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকতার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন তিন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২৫ সালের ১ জুন (২০২৪-২০২৫ অর্থবছর) থেকে ঘটনা শুরু। এর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরও শেষ হয়েছে। বর্তমানে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর চলছে। তিন অর্থবছর ধরে চলা ঘটনা ম্যানেজারের না জানাও অপরাধ। কারণ ভল্টের দায়িত্ব ক্যাশ ইনচার্জ ও ম্যানেজারের যৌথভাবে থাকে। চাবিও ম্যানেজারের কাছে থাকে। ম্যানেজারের চাবি ছাড়া ক্যাশ ইনচার্জ একা ভল্ট খুলতে পারেন না।’
তারা বলেন, ‘এক হাজার টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট দেওয়ার কথাও সঠিকভাবে মিলছে না। কারণ টাকার সাইজ বড় ছোট রয়েছে। এক হাজার টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট দিলে সেটা বাইরে থেকে বোঝা যাবে। টাকা ভাঁজ করলেও উঁচুনিচু হয়ে যাবে। তাছাড়া ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অডিট করারও কথা। আবার ক্যালেন্ডার ইয়ারের ২০২৬ সালের শুরুতে ক্যাশ ইনভেন্ট্রি (মজুত গণনা) হওয়ার কথা। তাও শুধু ক্যাশ অফিসারের দ্বারা সম্ভব নয়। তাছাড়া এটি কর্পোরেট শাখা। এখানে লেনদেনের ভলিউম বড় থাকে। অফিসারও বেশি। এক কর্মকর্তার পক্ষে ১৫ মাস ধরে ভল্ট থেকে টাকা সরানোর সুযোগ কম।’
এ নিয়ে কথা হলে সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘যদি ওই ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের মতো কিছু হয়ে থাকলে আমরা মামলাটি অন্য সংস্থায় দিয়ে দিতে পারি। এখানে আসামি সরকারি কর্মচারী। তারা অর্থ আত্মসাতই করেছে। এখানে তদন্তে যদি মনে হয়, ঘটনা দুদকে যাওয়ার মতো, তাহলে মামলাটি দুদকে চলে যাবে।’
এ ধরনের ঘটনায় ৪০৮ ধারায় থানায় মামলা রেকর্ড করার সুযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে টাকাটা দেশের বাইরে যায়নি মর্মে আপাতদৃষ্টিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। এখন যদি মানি লন্ডারিংয়ের উপাদান থাকে, তাহলে সেটি দুদকে যাবে, ওই ধারাতেই চার্জশিট হবে। তাতে সমস্যা হবে না।’
এ ব্যাপারে কথা হলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকের কর্মকর্তা দ্বারা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনায় থানায় মামলার রেকর্ড করার সুযোগ নেই। এটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তদন্তও দুদক করবে। থানায় ভুলে মামলা রেকর্ড হয়ে থাকলে তা দ্রুত দুদকে পাঠানো উচিত।’