কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে পুনরায় ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত শাশুড়ি রাবেয়া খাতুন (৩৯) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। নিহত রাবেয়া খাতুন কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে রাবেয়া খাতুনের বড় ছেলে সুমনের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। গত ৪ আগস্ট বৃষ্টিকে পুনরায় বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন সুমন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাবেয়ার ভাতিজা শরিফ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ও আসাদুল হোসেনসহ তাদের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাবেয়ার বাড়িতে হামলা চালান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে রাবেয়া খাতুন মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনেরা জানান, রাবেয়ার মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছিল।
রাবেয়ার স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ‘ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে বাড়িতে আনার কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। হঠাৎ বাড়িতে তারা হামলা চালায়। এতে আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন। তিনি বলেন, তালাক দেওয়া বউকে ঘরে তোলা নিয়ে প্রথমে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে তাদের পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছেন। কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়নি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আগেই থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত এক নারী শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।