Image description

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওটির ভুক্তভোগী সোনারগাঁর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিযার্তনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁ থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তাকে বাবা মায়ের সহযোগিতায় আজ শনিবার সকালে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। অপরাধ সংশোধনের জন্য তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুল ড্রেস পড়া দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবার উড়ন্ত লাথি মারে ছেলেটি। এ সময় কেউ একজন মোবাইলে ভিডিওটি ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক ও মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টকর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় , গত প্রায় এক মাস আগে সোনারগাঁর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। এ সময় দিলশাদ হোসেন নামের এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে কেউ একজন সেটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দিলে সেটি বৃহস্পতিবার থেকে ভাইরাল হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করনো হয়। ওই স্কুলে বর্তমানে এডহক কমিটিতে বিএনপি নেতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সদস্য সচিব স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার, অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ মমিনুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মনোয়ার হোসেন।

তাদের দাবি, তারা ওই ছাত্রীদের টিসি দেননি। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বাইরে অবস্থান করার কারণে তাদের তাদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ফোনে তাদের ডেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়।

 

নির্যাতনের শিকার ছাত্রী  নিন্ম মাধ্যমিকের। ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা কাঁচপুরের একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তার মা হাজেরা বেগম অসুস্থ।

ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি এক মাস আগের। তিনি বলেন, স্কুল চলাকালীন সময় স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরার করায় স্কুলের স্যারেরা বিচার করে তার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে।

তিনি আরও বললেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়াতে পারব না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে আসার পর অভিযুক্ত কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে সমাজ সেবা কর্মকর্তার জিম্মায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানান, বিভিন্ন সময়ে দুই শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার মৌখিক সতর্ক করা হলেও তারা শোনেনি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যৎতে এমন করলে তাদের টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে শুনেছি।

কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এডহক কমিটির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাদের অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাদের স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হবে।