Image description

রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি। দেয়ালে গ্রাফিতি, ছবি আর বিভিন্ন নিদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আটকে দিচ্ছে শাপলা চত্বর কর্নারের একটি ভাস্কর্য। সামাজিক মাধ্যমেও ভাস্কর্যটি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ভাস্কর্যটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণে পর এক আন্দোলনকারী আরেক সহযোদ্ধাকে টেনে তোলার দৃশ্য। রক্তাক্ত সেই সময়ের আতঙ্ক, সহমর্মিতা এবং প্রতিরোধের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ভাস্কর্যটিতে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ এটিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ জাদুঘরের ভেতরে এত বেশি ভাস্কর্য রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

দর্শনার্থী মো. বারাসাতের কাছে শাপলা চত্বরের স্মৃতি জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, সেখানে গণহত্যার ঘটনাগুলো বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে ভাস্কর্যটি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অন্যদিকে দর্শনার্থী মো. আহসানুল ভাস্কর্যটি স্থাপনের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলছেন, ‘ভাস্কর্যটি রাখার ব্যাপারে আমি সহমত পোষণ করি না। জুলাই জাদুঘরে কেন এত বেশি ভাস্কর্য থাকবে? হাসিনা আমল আর এখনকার সময়ের মধ্যে পার্থক্য কী?’

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দর্শনার্থী প্রশ্ন তোলেন, ‘এত বড় একটা অভ্যুত্থান হয়ে গেল, তার ভাস্কর্য থাকবে না? তার মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি ও ভাস্কর্য থাকবে এবং এগুলো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।’

জুলাই জাদুঘর ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল মৃধা বিষয়টিকে দেখছেন কিছুটা ভিন্নভাবে। তাঁর ভাষায়, ‘মাত্র তো উদ্বোধন হলো। আমাদের দেশের মানুষ প্রথম দিকে সবকিছুর প্রতিই খুব আকর্ষণ দেখায়। দেখা যাক, এই আগ্রহ থাকে কি না।’

শাপলা চত্বরের ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা শুধু একটি দৃশ্য দেখছেন না,তারা নিজেদের মতো করে একটি সময়কে পড়ছেন। কেউ স্মৃতি খুঁজছেন, কেউ প্রতিবাদের ভাষা, আবার কেউ খুঁজছেন ইতিহাস সংরক্ষণের উপযুক্ত পদ্ধতি। সামাজিক মাধ্যমেও এই ভাস্কর্যটি আলোচনা তৈরি করেছে।