চলতি অর্থবছরে আরও ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও অন্যান্য উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করতে গঠিত সেলের সপ্তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমকক্ষে এ সভা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার বছরে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন, তিন হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহারের এক হাজার ৫০৪ জন এবং ৩০১টি গির্জার ৬০২ জন উপকারভোগীকে এ সম্মানী দেওয়া হবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মাসিক ভিত্তিতে ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষকে ও যাজকদের ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকদের ৩ হাজার এবং মসজিদের খাদেমদের ২ হাজার টাকা হারে এ সম্মানী দেওয়া হবে। এছাড়া বছরে প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীর চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হবে।
সভায় সেলের সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।