কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনকে কুরিয়ারে কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আগরবাতি ও হুমকিমূলক চিরকুট পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার মাস্টাররোলে কর্মরত তিন কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।
অভিযুক্তরা হলেন—পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কম্পিউটার অপারেটর আল-মামুন, লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর আল-আমিন এবং পৌরসভার লাইব্রেরিয়ান রাকিব মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর তাদের সন্দেহজনক আচরণের কারণে পৌরসভার দুই সিনিয়র কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ফারুক হোসেনের স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে দেওয়া হয় মো. ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর।
দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাসায় পার্সেল খুলে দেখা যায়, এতে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপজলের বোতল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট রয়েছে।
চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’
ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ফারুক হোসেন ভৈরব থানায় একটি জিডি করেন। পাশাপাশি পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকর্মীদের বিষয়টি অবহিত করেন।
মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি বিধি মেনে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারি বিধি বাস্তবায়নে সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি পৌরসভার মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়টি আমার একার সিদ্ধান্তের নয়। তবুও তারা আমাকে স্থায়ীকরণের পথে প্রতিবন্ধক মনে করে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে আমার ধারণা।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।