১.
মন্ত্রিসভায় গুম সংক্রান্ত আইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ সেই পুলিশ গুমের তদন্ত করবে। আমরা নিশ্চিত ভাবে ধরে রাখতে পারি, বিরোধী দল জামায়াত- এনসিপি এই আইনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেবে। প্রচার- প্রচারনা চালাবে। সরকারের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে এভাবে জনমত তৈরি হয়।
এরপরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদের আগামি অধিবেশনে এই আইন পাস হবে। গুমের এই আইনটি একটি গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে। হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র ছিলো গুমের বিরুদ্ধে মানুষের ঘৃনাসুচক প্রতিবাদ। আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের কারনে সরকারের মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করবে। যার সুবিধা নেবে পতিত ফ্যাসিস্টরা।
২.
আজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসকে মেরে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রদল। ভিপিকে মেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে। এদেরকে ছাত্ররা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। যারা তাদের ভোট দিয়েছে তারা সবাই শিবিরের নেতাকর্মী নয়। তারা বিষয়টি কিভাবে দেখছে? ভালো ভাবে নেয়ার কথা নয়। ছাত্র সংগঠন হিসাবে শিবির এ ঘটনাকে যে সিরিয়াসলি নেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রভাব কি হবে আমরা জানিনা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লাশ পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আদু ভাইরা যখন নির্বাচিত ভিপি- জিএসকে মেরে হল ছাড়া করে তখন লাশ পড়া কোনো ব্যাপার নয়।
আমার ধারনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে একই ঘটনা ঘটতে পারে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয় ঢাকা কলেজও সংঘর্ষ হয়েছে। সম্ভবত দু-একদিনের মধ্যে সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘাত শুরু হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের নির্দেশনাতে এমন হতে পারে। সম্ভবত জ্বালানী সংকট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা থেকে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দৃষ্টি সড়াতে সরকার এমন কৌশল নিয়েছে। আবার ভবিষ্যত আন্দোলন মোকাবেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন নেয়ার কৌশল হিসাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে এর ফল হিসাবে যে কোনো সময় রক্তাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হতে পারে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সর্ম্পকের অবনতি ঘটবে।
৩.
বাংলাদেশের মিডিয়া আবার আগের ধারায় ফিরে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে দুজন মাদ্রাসার ছাত্র চিকিতসার জন্য এসেছিলো হলে থাকা এক আত্নীয়ের কাছে। যিনি আবার এ হলের জিএস ও শিবির নেতা। মাদ্রাসা ছাত্র দুজন সমকামীতায় লিপ্ত ছিলো বলে এক ভিডিও দেখিয়ে গনমাধ্যমে প্রচার করা হয়। বিস্মিত হলাম এ বিষয়ে একটি টেলিভিশনে টকশোতে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলো। উপস্থাপিকা এ নিয়ে খুব আগ্রহের সাথে আলোচনা করছেন। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে এই দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে ভয় দেখিয়ে জোর করে ভিডিওতে সমকামিতা করেছে বলে স্বীকার করানো হয়েছিলো, অথচ এমন ঘটনা ঘটেনি। এর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য হল প্রভোস্টকে ভোরে বাসা থেকে ধরে আনে ছাত্রদলের নেতারা। এরপর তিনি পদত্যাগ করেন।
প্রতিপক্ষকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এমন নোংরামো আমরা অতীতে দেখিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে টেলিভিশনে কিভাবে আলোচনা হতে পারে ? বিএনপিপন্থী দাবি করা সাংবাদিক-উপস্থাপকদের একটি অংশ সেই পুরানো আওয়ামী কৌশল নিয়েছে। আওয়ামী সাংবাদিক- উপস্থাপকরা এক সময় খালেদা জিয়ার বাড়িতে মদের বোতল ও প্রেমের চিঠি পাওয়া গেছে বলে উল্লাস করতো। এই যে কিশোর দুই মাদ্রাসা ছাত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হলো। এ নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে আলোচনা হলো তাতে এই দুই কিশোর তো মানসিক ট্রমার ভেতর দিয়ে যাবে – এর দায় কে নেবে। দলবাজি করতে গিয়ে আমরা নতুন নতুন মোজাম্মেল বাবু আর ফারজানা রুপাদের দেখছি। কিন্তু তাদের পরিনতির কথা ভাবছি না।