বছরের পর বছর ধরে চলা পচা সিস্টেম ‘কুসুম কুসুম’ আন্দোলন দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অন্যায়, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলি বলে অনেকে আমাকে ‘বেয়াদব’ বা ‘গুন্ডা’ বলে। বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত কমিটি রয়েছে এবং আমি আমার ছাত্রত্ব হারানোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে আমি চাই, আগামী ১০ বছর পর শিক্ষার্থীরা বলুক—একজন ছাত্রনেতা ছিল, যে সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছিল।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘আলাপন’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে আম্মার বলেন, আমি বিশ্বাস করি, কেউ যখন কাজ করবে, তখন তার সমালোচনা হবেই। যারা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে আসেন, তাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—আল্লাহ ছাড়া আমাকে থামানোর মতো কেউ নেই। সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের কোনো ‘মাদার অর্গানাইজেশন’ বা অভিভাবক থাকে, যারা তাদের বক্তব্য ফিল্টার বা নিয়ন্ত্রণ করে দেয়। কিন্তু আমার কোনো রাজনৈতিক অভিভাবক নেই; আমার বক্তব্য সরাসরি আমার চিন্তা এবং প্রজ্ঞা থেকে আসে।
দেশের রাজনীতির বড় সমস্যা ‘অন্ধ আনুগত্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিজের নেতার ভুল ধরিয়ে দিলে অনেকে তাকে বেয়াদব বা দলছুট মনে করে। আমি মনে করি, নেতার গঠনমূলক সমালোচনা করা ও ভুল ধরিয়ে দেওয়া জনগণের দায়িত্ব; তা না হলে সমাজে আবারও ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। যারা আমার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করে বা আমাকে অবাধ্য বলে, আমি তাদের কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। কারণ আমি সঠিক পথে না থাকলে তারা আমাকে নিয়ে মাথা ঘামাতো না। এই সমালোচনাগুলোই আমার কাজের আসল মানদণ্ড।
আলোচনায় থাকার জন্য বা ‘ভাইরাল’ হওয়ার উদ্দেশ্যে এসব করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আম্মার বলেন, পরিচিতি বা খ্যাতি পাওয়ার জন্য আমার জাতীয় পর্যায়ের নানা অর্জন রয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও আমার আলাদা পরিচয় আছে এবং আমার নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস রয়েছে। আমি যদি শুধুই সিনেমা বানাতাম, তবে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু আমি সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষে লড়াই করতে ভালোবাসি। শিক্ষার্থীরা আমাকে ভালোবাসে কারণ আমি কারও হাতের পুতুল নই। আমি আমার অনুসারীদের চেয়ে সমালোচকদের গঠনমূলক মতামতকেই বেশি গুরুত্ব দিই।