Image description

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো ফেনী সদর উপজেলায়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প শেষে অব্যয়িত ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ৭০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনওকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়রা নানা পোস্ট দিচ্ছেন।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নে মোট ৪ কোটি ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭০৫ টাকা বরাদ্দে দুটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী খাল (মোহাম্মদ আলী বাজার থেকে এলাহীগঞ্জ পর্যন্ত) পুনঃখননে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩০ টাকা এবং বালিগাঁও ইউনিয়নের দাউদপুর-মধুয়াই খাল (মধুপুর ব্রিজ থেকে মধুয়াই হয়ে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত) পুনঃখননে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ ছিল।

 

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে খালের নির্ধারিত নকশা ও গুণগত মান হুবহু বজায় রেখে মোট ১১ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়।

শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ করে কাজ শেষ করার পরও ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ৭০ টাকা সাশ্রয় হয়। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা যথাযথ অনুসরণ করে অব্যয়িত এই পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেন ইউএনও।

 

 

সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন সুশীল সমাজের প্রশংসায় ভাসছে।

স্থানীয়রা জানান, খাল দুটি দীর্ঘদিন পলি পড়ে ভরাট হয়েছিল। এখন পুনঃখনন করায় পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা জানান, সরকারি অর্থ অপচয় না করে যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। ফেনী সদরের এই উদ্যোগ সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।