কাঁচা মরিচ! তরকারির স্বাদ যেমন বাড়ায়, তেমনি এর পুষ্টিগুণ নিয়েও বলে শেষ করা যাবে না। ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম— এমন কেউ নেই যারা কাঁচা মরিচ কেনেন না। দেশি রান্নায় ব্যবহৃত একটি অপরিহার্য উপাদান কাঁচা মরিচ। যদিও রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এই নিত্যপণ্য। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ এখন ৩০০ থেকে কয়েকটি বাজারে ৩২০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তদারকি সত্ত্বেও কমছে না এই নিত্যপণ্যের দাম। ফলে স্বল্প ও মাঝারি আয়ের মানুষ আছেন বিপাকে। রান্নাঘরে তরকারির ঝাল ঠিক রাখতে গিয়ে কাটা পড়ছে পকেট। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতেই উঠে এলো বর্তমান বাজারদরের চিত্র। কারওয়ান বাজারে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা দরে। অপরদিকে পাইকারিতে এই মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮০ টাকা। পাইকারি ও খুচরা দামের এই ব্যবধানে সাধারণ ক্রেতারা হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
বাজারের এমন পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় আড়তমালিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তার বক্তব্যে উঠে আসে সাপ্লাই চেইন ও সরবরাহ সংকটের নানা দিক। তিনি বলছিলেন, ‘মরিচ আসাই কইমা গেছে। আগে যা আসত, এখন তার অর্ধেক আসে। বন্যার পানি বাড়ার কারণেই মূলত কইমা গেছে। তাই আমরা কিনতেসি বেশি দামে, বেচতেসিও বেশি দামে। তার মধ্যে ইন্ডিয়া থেকে কাঁচা মরিচ এখনো আসা শুরু করেনি। আসা শুরু করলেই দাম কইমা যাবে।’
অন্যদিকে, চড়া দামে বিক্রি করায় বেচাবিক্রি নিয়েও অস্বস্তিতে আছেন কিছু খুচরা বিক্রেতা। ক্রেতাদের সঙ্গে দাম নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তাদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। এ বিষয়ে খুচরা বিক্রেতা জামিল উদ্দীনের ভাষ্য, ‘কাঁচাম রিচের দাম কইলেই কাস্টমার ক্ষেইপা যায়। আমরা যেই দামে কিনে আনি তার চাইতে সামান্য লাভ কইরা বিক্রি করি। দাম বাড়লে আমার কী দোষ? এই অবস্থায় ভালোমতো বেচাকেনাও করা যাইতেছে না।’
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, কাঁচা মরিচ এখন বিলাসদ্রব্যে পরিণত হয়েছে। সালমা বেগম নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘গত সপ্তাহেই নিলাম কেজি ২৪০ টাকায় আর আজকে নিচ্ছি ৩২০ টাকায়। কাঁচা মরিচ তো অন্য সবজির মতো না। বেশি করে কিনে রাখার সুযোগ নাই। এক সপ্তাহের বেশি পার হয় না, নষ্ট হয়ে যায়। এখন এইভাবে প্রতি সপ্তাহেই যদি দাম বাড়ে, তাহলে তো সংসারে অন্য কিছু কিনতেই কষ্ট হয়ে যাবে।’
বাজার বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশের অনেক স্থানে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। বাইরে থেকে আমদানি না করলে বাজারে স্বস্তি ফেরানো কঠিন হবে।