Image description

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গত ২১ জুলাই এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। এরমধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে ‘চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি, মেম্বার পদে এসএসসি সার্টিফিকেট এর মূল কপি ছাড়া মনোনয়ন বাতিল করা হবে’ এমন একটি দাবি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

 

তবে এশিয়া পোস্ট ফ্যাক্ট চেক করে দাবিটির সত্যতা পায়নি। এইচএসসি নয় বরং চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট

 

প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এ সম্পর্কিত কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়াও, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ এমন শিরোনামে সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনের’ একটি পেপার কাটিং বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে। এতে সংবাদটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৯ মে, ২০২৬ লেখা থাকতে দেখা যায় অথচ রুলই জারি হয়েছে তার প্রায় দুই মাস পরে, ২১ জুলাই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে, পত্রিকাটির ভ্যারিফায়েড পেজ এবং ওয়েবসাইটে সার্চ করে এ ধরনের কোনো পোস্ট কিংবা সংবাদ পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ছবিটি জিরোজিপিটিসহ একাধিক এআই কন্টেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে পরীক্ষা করে এর ৯৬ শতাংশের বেশি এআই বলে জানা গেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ প্রতিদিন এ ধরনের কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি, এআই এর সহয়তায় পেপার কাটিং টি তৈরি করা হয়েছে।

 

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে রুলি জারির সময় চার সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করে আদালত। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুল জারির দিন (২১ জুলাই) থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (২৯ জুলাই, বিকেল সাড়ে ৫ টা) সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

 

অন্যদিকে, হাইকোর্টের জারি করা রুলে ‘চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম স্নাতক নিশ্চিতের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ফলে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়ার নিয়মটি ভিত্তিহীন।

 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গত ২২ জুলাই রাতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, আদালতের নির্দেশনা ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে পরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

ফলে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি, মেম্বার পদে এসএসসি সার্টিফিকেট এর মূল কপি ছাড়া মনোনয়ন বাতিল করা হবে’ শীর্ষক দাবিটি ভুয়া।