দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশ আগে টিকা পায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে টেস্ট বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম ও অযৌক্তিক সিজারিয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হাম ও রোগটির উপসর্গে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে এক ও উপসর্গ থাকা দুই শিশু মারা গেছে। একই সময়ে দেশে ৯৯৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে ৭৩৫ এবং হাম শনাক্তের পর ৯৬ জনসহ মোট ৮৩১ শিশু মারা গেছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ শিশুর। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৩৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে দীর্ঘ সময় হামের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের ৯৯ শতাংশই টিকা পায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি এক লাখের বেশি নতুন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং সরকারি দায়িত্ব রেখে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করার মতো অনিয়ম আর চলতে দেওয়া হবে না। এসব কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক এনামুল হক বক্তৃতা দেন। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ কিট বক্স দেওয়া হয়। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, উচ্চতা-ওজনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।