Image description

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে হামলার ঘটনার পর উদ্ভূত উত্তেজনার মধ্যে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে ১৪৪ ধারার মধ্যেই বিক্ষোভ করতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে এনসিপি।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। এর আগে থেকেই হবিগঞ্জে অবস্থান করছেন নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মসূচির উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। তবে ১৪৪ ধারার মধ্যে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা পৌঁছানোর পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন এবং বিকেলে হবিগঞ্জে আসবেন। তিনি বলেন, ‘গতকালের হামলার প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। একপর্যায়ে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে আশ্রয় নিলে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর এনসিপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা। রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীনতা বজায় রাখা উচিত এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।